বাংলাদেশে গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। গবেষণা, মেশিন লার্নিং ও ডেটা–নির্ভর উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করতে সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো একটি শেয়ারেবল জিপিইউ ক্লাউড ফ্যাসিলিটি চালু করা হয়েছে।
দেশীয় একটি গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, এই সুবিধাটি উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ)। গবেষক, উদ্ভাবক, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সুবিধা সহজে ব্যবহার করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারিভাবে এ ধরনের শেয়ারেবল ক্লাউড সুবিধা এটিই প্রথম।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপ লার্নিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জিপিইউ (Graphics Processing Unit) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জিপিইউ সার্ভার স্থাপন ও পরিচালনা ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক গবেষক ও স্টার্টআপের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
নতুন এই শেয়ারেবল জিপিইউ ক্লাউড ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে—
-
গবেষকরা দূরবর্তীভাবে শক্তিশালী কম্পিউটিং রিসোর্স ব্যবহার করতে পারবেন
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে
-
স্থানীয় স্টার্টআপগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্য ও সেবা উন্নয়নে গতি পাবে
-
দেশে মেশিন লার্নিং ও ডেটা সায়েন্স দক্ষতা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে
সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো অপরিহার্য। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তি খাতে আত্মনির্ভরতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা গেলে এই শেয়ারেবল জিপিইউ ক্লাউড ফ্যাসিলিটি বাংলাদেশের এআই ও গবেষণা খাতে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।


