সাক্ষাৎকার

একটি পাখির সাক্ষাৎকার । আহমদ সায়েম

সকাল না সন্ধ্যা—বোঝা যায় না। জানালার ধারে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।

মানুষ: তোমারেযে অদ্য একেবারে দেখি না, কই থাকো?
পাখি : তোমার ঘরের কাছেই তো থাকি। গাছের ডালে, ডালের নিচে, কখনো ছাদের কার্নিশে, কখনো জানালার ছায়ায়। তোমরা মানুষরা না দেখলে ভাবো— আমরা বুঝি কোথাও নেই।

মানুষ: ঠাণ্ডা লাগে না তোমার?
পাখি: লাগে। তবে ঠাণ্ডা লাগা আর ভেঙে পড়া এক জিনিস নয়। মানিয়ে নিতে পারলে ঠাণ্ডা শুধু একটা খবর হয়ে আসে— দুর্ভোগ হয়ে থাকে না।

মানুষ: মানিয়ে নিতে পেরেছ বলে তো মনে হয় না। আগে আমার জানালার পাশে বসে গান গাইতে, এখন তো দেখি না!
পাখি: গান থেমে যায়নি, শুধু জায়গা বদলেছে। সব গান কি কেবল তোমার শোনার জন্য?
কখনো কখনো গান নিজের ভেতরেও গাইতে হয়।

মানুষ: তোমরা কি পালিয়ে যাও?
পাখি: পালানো আর পথ বদলানো এক নয়। আমরা পালাই না— আমরা শিখে নিই কোন হাওয়ায় উড়তে হয়, কোন হাওয়ায় ডানা গুটিয়ে থাকতে হয়।

মানুষ: তাহলে এই বদলে যাওয়াটা কী?
পাখি: আবহাওয়া যেমন বদলায়, তেমনি বদলায় জীবন। আবহাওয়া বদলে যাওয়ার আগে কারও অনুমতি নেয় না— কিন্তু সংকেত দিয়ে যায়। যে সংকেত বুঝতে পারে, সে টিকে থাকে। পরিবর্তন মানা মানে অবাধ্য হওয়া নয়, পরিবর্তন না মানাই আত্মহত্যার কাছাকাছি।

মানুষ: তোমাদের ভয় লাগে না?
পাখি: ভয় লাগে। কিন্তু ভয়কে সঙ্গে নিয়েই উড়তে হয়। ভয়কে ঘরে রেখে কেউ আকাশ পায় না।

মানুষ: তোমরা মানুষদের কী বলতে চাও?
পাখি: ঘর বড় করো না, ডানা বড় করো। সব জানালা বন্ধ রেখো না— কিছু জানালা খোলা থাকুক হাওয়ার জন্য। আর মনে রেখো, সব গান জানালার ধারে বসে গাওয়া যায় না।

মানুষ: আমি আবার কি তোমাকে দেখব?
পাখি: দেখবে— যেদিন তুমি বদলকে শত্রু ভাববে না, সেদিনই আমি তোমার পাশের ডালটায় বসে থাকব।

পাখিটা উড়ে যায়। ঘরের ভেতর হালকা হাওয়া ঢোকে। আমি জানালাটা একটু খুলে রাখি— এই ভেবে, হয়তো কোনো গান ফিরে আসার পথ খুঁজছে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *