অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি-কে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না—এ কথা বললেই যেন তাঁর ব্যক্তিত্বের গভীরতা কিছুটা আঁচ করা যায়। হয়তো নতুন প্রজন্মের কিছু তরুণ পাঠকের কাছে তাঁর নাম আলাদা করে তুলে ধরতে হতে পারে, কিন্তু বাংলা নাটক, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর উপস্থিতি এতটাই দীপ্ত ও স্থায়ী যে আলাদা পরিচয়ের প্রয়োজন খুব কমই পড়ে। তিনি শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক উচ্চারণ, এক ভঙ্গি, এক স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি।
মঞ্চে তাঁর কণ্ঠের দৃঢ়তা, টেলিভিশন পর্দায় তাঁর দৃষ্টি, আর সংলাপ উচ্চারণের ভেতরকার তীক্ষ্ণতা—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সময়ের প্রতীক। চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার যে ক্ষমতা, তা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, কারণ তাঁর অভিনয়ে ছিল সত্যের শক্তি, জীবনের ঘ্রাণ।

হুমায়ুন ফরীদি কেবল অভিনয়ের মাধ্যমেই নয়, তাঁর উচ্চারণ করা নানা উক্তি, জীবনদর্শন ও স্পষ্টভাষী মন্তব্যের মাধ্যমেও মানুষের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর কথায় ছিল প্রতিবাদ, ছিল রসবোধ, ছিল তীব্র আত্মমর্যাদাবোধের দীপ্তি। সেই উক্তিগুলো আজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ায়, নতুন করে ভাবতে শেখায়, সাহস জোগায়।
আমাদের ম্যাগাজিনে আমরা তাঁকে স্মরণ করছি তাঁর কিছু স্মরণীয় উক্তির আলোকে—যে কথাগুলো আজও প্রাসঙ্গিক, আজও অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁর কণ্ঠের প্রতিধ্বনি হয়তো আর সরাসরি শোনা যায় না, কিন্তু তাঁর ভাষা, তাঁর ভাবনা, তাঁর শিল্পীসত্তা এখনো আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আলোড়িত করে। এই শ্রদ্ধার্ঘ্য সেই প্রভাবশালী শিল্পীর প্রতি কৃতজ্ঞ স্মরণ।
#
উঠে দাঁড়াতে একটা হাত লাগে, আর ঘুরে দাঁড়াতে একটা আঘাত।
#
লাইফ ইজ নাথিং বাট আ জার্নি টুয়ার্ডস ডেথ। আপস করে তো ভিতু মানুষ। আপস করে তো মেরুদণ্ডহীন প্রাণী।
#
মানুষ কখনো বৃদ্ধ হয় না। মানুষ তার মনে মনে সারা জীবনই ২৮ বছরে থাকে।
#
তুমি এমন কিছু আশা করবে না, যেটা তোমার নাগালের বাইরে।
#
তুমি যখন কাউকে ভালোবাসবে, তখন একবুক সমুদ্র নিয়ে ভালোবাসবে। একবুক সমুদ্র না হলে সেই প্রেমের কোনো অর্থ থাকে না।
#
যদি তোমার সম্পর্কে মানুষ তোমার পেছনে কিছু বলে, জেনো তুমি কিছু একটা করছ, যা ওরা করতে পারছে না। মাথায় নিয়ো না। তোমার কাজ তুমি করে যাও মন দিয়ে। জয়ী হবে।
#
মৃত্যুর মতো এত স্নিগ্ধ, এত গভীর, সুন্দর আর কিছু নেই। কারণ, মৃত্যু অনিবার্য। তুমি যখন জন্মেছ, তখন তোমাকে মরতেই হবে। মৃত্যুর বিষয়টি মাথায় থাকলে কেউ পাপ করবে না। যেটা অনিবার্য, তাকে ভালোবাসাটাই শ্রেয়। মৃত্যুকে ভয় পাওয়াটা মূর্খতা। জ্ঞানীরা মৃত্যুকে ভয় পায় না। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করো, গ্রহণ করো, বরণ করে নাও।
#
সুখী হওয়ার একটাই উপায়, কেউ কাউকে ঠকাবেন না—অবশ্যই সুখী হবেন।
#
কিছু কিছু পরিবর্তন মানুষ নিজেই করে; আর কিছু কিছু পরিবর্তন মানুষের জীবনে আসে, যেটা সে কখনোই চায় না বা আশা করে না।
#
কাউকে এতটাও ভালোবাসো না, যতটা ভালোবাসলে মানুষটা তোমাকে ছেড়ে চলে গেলে তুমি নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে যাবে! বরং ভালোবাসা হোক গিভ অ্যান্ড টেক পলিসি। তুমি যতটুকু দেবে, ততটুকুই পাবে। এর বেশি ভালোবাসা দিলে তুমি পাবে অবহেলা আর অপমান।
#
কেন প্রেমে পড়লাম, কেন ভালোবাসলাম এর কারণ যদি তুমি খুঁজতে যাও, দেখবে তুমি কিছুই খুঁজে পাচ্ছ না। অন্ধকার ঘরে তুমি কালো বিড়ালকে খুঁজছ, কিন্তু বিড়ালটি সেই ঘরে নেই—ভালোবাসাটি এমন।
#
আমি যাকে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি, সে আমাকে ফেলে গেছে। আমাদের জীবনেও প্রায়ই এমনটা হয়। যাদের আমরা একান্তই খুব কাছের মানুষের মতো প্রাধান্য দেই, নিয়তির দোষে তাদের সঙ্গেই আমাদের বেশি ছাড়াছাড়ি হয়।
#
একা থাকা অনেক ভালো, কারণ একাকিত্ব কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করে না।
#
আমি আমার শত্রুকে ‘বধ’ করার জন্য আমার ‘হাসিটুকু’ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করি। মানুষ পেছনে অনেক কিছু বলে, এটাই নিয়তি।


